যুক্তরাষ্ট্রে কিছু হলে দায়ী আদালত : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আদালতের ওপর ব্যাপক চটেছেন সদ্য ক্ষমতা নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলার দায়িত্ব নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। টুইটারবার্তায় তিনি এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

রোববার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘একজন বিচারক আমাদের দেশকে এমন বিপদের দিকে নিয়ে যাবেন- এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না। যদি কিছু ঘটে যায়, তাহলে তার জন্য তাকে এবং আদালত ব্যবস্থাকে দায়ী করুন। বাজে!’

অপর এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে আমি নির্দেশনা দিয়েছিলাম, আমাদের দেশে আসা লোকজনকে যেন খুব ভালোভাবে পরীা-নিরীা করা হয়। আদালত এটাকে খুব কঠিন করে তুলেছেন।’

সম্প্রতি মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ জারি করেন। গত শুক্রবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর সিয়াটলের বিচারক জেমস রবার্ট ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞার ওপর দেশজুড়ে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। ট্রাম্প প্রতিক্রিয়ায় রবার্টের ওই স্থগিতাদেশকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবেন বলেও জানান। এরই ধারাবাহিকতায় আদালতের এ স্থগিতাদেশ বাতিল চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নাইনথ সার্কিট আপিল আদালতে আবেদন করেন।

কেন্দ্রীয় ওই আদালত রোববার একই সঙ্গে এ আবেদনের ওপর পুরোপুরি শুনানি না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল থাকবে বলে জানান। পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ও অঙ্গরাজ্যগুলোকে আরও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।

আপিলে বিচার বিভাগ বলেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আরও বলা হয়, ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নয়। এটি কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য। শুনানিতে অঙ্গরাজ্যের আইনজীবীরা বলেছেন, সাতটি দেশের মানুষের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক। গত ২৭ জানুয়ারি ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও সুদানের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর ৯০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ দেশগুলোর ভিসা পাওয়া লোকজনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। অনেকে শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে এসে আটক হন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণের কর্মসূচি ১২০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s